উইকিলিকসে বাংলাদেশ
December 20, 2010 Leave a Comment
সচলায়তনে প্রকাশিত (১৮.১২.২০১০)
কেবলগেটের শুরুতেই উইকিলিকস প্রকাশিতব্য আড়াই লক্ষাধিক বাতার্র একটি তালিকা দিয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রেরিত প্রায় দুই হাজার বার্তাও আছে বলে জানানো হয়েছিল। এই বার্তাগুলি এখনোও প্রকাশিত হয়নি।
গতকাল বিডিনিউজ যে বার্তাগুলি নিয়ে রিপোর্ট করেছে, তার কোনটিই “এক্সক্লুসিভলি” তাদেরকে দেয়া হয়নি, বরং তা এ মাসের শুরু থেকেই উইকিলিকসের সাইটে ঝুলছে। বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো যেসব বার্তা উইকিলিকস প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে। গতকাল থেকে বিডিনিউজ “ওয়ার্ল্ড এক্সক্লুসিভ” দাবী করে যে বার্তাগুলি নিয়ে রিপোর্ট করছে, সেগুলিও তাই। এগুলি বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রেরিত বার্তাগুলির অংশ নয়।
উইকিলিকসের লক্ষাধিক বার্তার মধ্য থেকে বাংলাদেশ সংক্রান্ত বার্তা বের করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। আপনি এখানে ক্লিক করলেই বাংলাদেশ সংক্রান্ত অধিকাংশ বার্তা পেয়ে যাবেন; বা গুগলে site:wikileaks.ch Dhaka OR Bangladesh লিখে সার্চ দিলেই গুগল আপনাকে একটি লিস্ট দিয়ে দিবে। এখন যে কোন বার্তায় গিয়ে শুধু ctrl+F চেপে Dhaka বা Bangladesh খোঁজ করুন, পেয়ে যাবেন। চাইলে অন্য যেকোন শব্দ বা শব্দবন্ধ দিয়েও সার্চ করতে পারেন।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে সচলের কয়েকজনকে জানি যারা একই পদ্ধতি অনুসরণ করে উইকিলিকসে নিয়মিত নজর রাখছেন বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো বার্তাগুলির জন্য। তাহলে এখানে এই সহজলভ্য বিষয়টির অবতারনা কেন?
কারন এখানে দেখুন। আদিখ্যেতা কোন পর্যায়ে পৌছুলে ইতমধ্যে প্রকাশিত একটি বিষয় “এক্সক্লুসিভলি হস্তগত হয়েছে” দাবী করে প্রায় এক হাজার শব্দের একটি ভুমিকা দেয়া সম্ভব? এ নিয়ে আর কিছু না বলে সচল পাঠকদের এই লিংক থেকে ভুমিকাটা একটু পড়ে দেখবার অনুরোধ করছি, যা এই লেখাটি প্রকাশের পর বিডিনিউজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে* ![]()
এক্সক্লুসিভনেস প্রমাণে বিডিনিউজ মূল বার্তাগুলির উইকিলিকসের লিংক প্রদান থাকেও বিরত থেকেছে।
***
প্রশ্ন হলো কেন অন্য কেউ এটা নিয়ে রিপোর্ট করছে না?
এর উত্তরে এক সাংবাদিক বন্ধু জানালেন, তারা বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রেরিত মূল বার্তাগুলির জন্য অপেক্ষা করছেন।
আরেক বন্ধু সেদিন দৈনিক এজ-এ প্রকাশিত রাহনুমা আহমেদের একটি লেখার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। রাহনুমা ইসরায়েল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে উইকিলিকসের সম্ভাব্য স্বাআরোপিত সেন্সর এবং উইকিলিকসের ইসরায়েল প্রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি জানি অনেকেই উইকিলিকসের প্রতি এধরনের অভিযোগ তুলে এটিকে পরিহার করার পক্ষ নিয়েছেন।
আমার এক কোরীয় বন্ধুর সাথে ফেসবুকে “দেশ চালনায় গোপনীয়তার প্রয়োজনিয়তা” নিয়েও বেশ আলোচনা হলো। আমি ব্যক্তিগত এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার পক্ষে। তথাপি, রাষ্ট্র যখন গোপনীয়তাকে সাধারন জনগনের বিপক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অথবা নিজে গোপনে অন্যের তথ্য সংগ্রহ করে, তখন তার সেই তথ্য প্রচার কতটা অনৈতিক তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।
অনেকেই উইকিলিকস প্রকাশিত বার্তায় আরব-বিশ্ব আর ইসলামী জঙ্গীবাদ সংক্রান্ত তথ্যের আধিক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উইকিলিকস ইচ্ছাকৃত ভাবে এটা করছে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। এমনও তো হতে পারে যে বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলির বার্তায় আরব-বিশ্ব আর ইসলামী জঙ্গীবাদই প্রাধান্য পেয়েছে আর উইকিলিকস তাই প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে উইকিলিকসের বার্তা ব্যবহার করেই বরং মার্কিনিদের এই একচোখা নীতির সমালোচনা করা যায়।
তবে বাংলাদেশ নিয়ে উইকিলিকসের বার্তা প্রকাশে আরেকটি সমস্যা আছে। অধিকাংশ বার্তাই বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিজস্ব মতামত, যা অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচকও হতে পারে। যেমন, অধিকাংশ বার্তায়ই বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের বার্তার প্রচার কি আমাদের দেশের ভাবমূর্তির জন্য খারাপ?
কারো মতে, দেশে কোন জঙ্গী নেই এবং “বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি” ধরনের অবস্থান নেয়া দেশের জন্যই ক্ষতিকর। আবার কারো মতে, এগুলির প্রচার বাংলাদেশের জন্য আফগানিস্তানের ন্যায় সমস্যা বয়ে আনতে পারে।
এদিকে ভাবমূর্তি ঠিক রাখার একটি অভিনব পদ্ধতি ভারতের পত্রিকাগুলি দেখিয়েছে। গতকালের সবচে’ বড় লিকস ছিল কাশ্মীরের সাধারন জনগনের উপর ভারতীয় সরকারী বাহিনীগুলোর নির্যাতনের খবর। কিন্তু ভারতের অনেক পত্রিকাই দেশের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে “ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি” সংক্রান্ত একটি বার্তাকে বেশি প্রধান্য দিয়েছে।
এই দুয়ের সমাধানে কেউ আবার মনে করেন, দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গী দমনে কঠোর কর্মসূচী নিতে হবে, কিন্তু দেশের বাইরে ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে হবে।
আমার মতে, চোখ বন্ধ করে রাখলে যেহেতু প্রলয় বন্ধ হয় না, তাই সবকিছু সরাসরি মোকাবেলা করাই শ্রেয়।
***
এবার কিছু বার্তার সরাসরি লিংক দিচ্ছি—
ক. ইসলামী ডেমোক্রাটিক পার্টির গঠনে ডিজিএফআই-এর সমর্থন ও হুজির কার্যক্রম:http://wikileaks.ch/cable/2008/11/08STATE116943.html#par29
খ. গত নির্বাচন নিয়ে জনমত, যেখানে ৮০ ভাগ মত দিয়েছিল যে তারা কোন দলের নির্বাচন বয়কট সমর্থন করে না, এবং এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য রাজী বলে জানিয়েছিলেন:
http://wikileaks.ch/cable/2008/11/08STATE116943.html#par30
গ. ইসলামী হেরিটেজ সোসাইটির-র অর্থায়ন ও কার্যক্রম:
http://wikileaks.ch/cable/2007/05/07KUWAIT808.html#par3
ঘ. বাংলাদেশের জাঙ্গীবাদে পাকিস্তানের অর্থায়ন:
http://wikileaks.ch/cable/2009/05/09RIYADH716.html#par7
[সূত্র: http://wikileaks.ch/cablegate.html]
*আপডেট ১:
সচলায়তনে লেখাটি প্রকাশের পর বিডিনিউজ সম্প্রতি ভুমিকা নামক পারিবারিক ইতাহাসের আলোচিত অংশটুকু সরিয়ে ফেলেছে। সেজন্য বিডিনিউজকে ধন্যবাদ। পাঠক চাইলে এখানে সরিয়ে ফেলা অংশটি দেখতে পারেন।
*আপডেট ২:
পারিবারিক ইতাহাস সংক্ষেপিত হয়ে “ব্যক্তিগত নোট” হিসেবে ফিরে এসেছে
চলতে থাকুক


