এক যোদ্ধা-দম্পতির প্রেম ও যুদ্ধ
May 6, 2011 Leave a Comment
প্রথম যুদ্ধ
বানু বিবি যখন নিতান্তই অপ্রাপ্তবয়স্কা কিশোরি, রুস্তম বেপারী তখন বয়:প্রাপ্ত যুবক। দুজনের বাড়ি ছিল নদীর দুই পাড়ে—পূর্বে বানু বিবি আর পশ্চিমে রুস্তম বেপারী। কিন্তু প্রকৃতির কী খেয়াল, নদীর ভাঙন বানু বিবিকেও নিয়ে এলো এই পাড়ে। ভাঙনের পর বানু বিবির বাবা নতুন ঘর তুললেন শরিয়তপুর এসে। পাশের বাড়িটিই ইকবাল আহমেদ বাচ্চুর—যেই বাড়িতেই দিনমজুরের কাজ করেন রুস্তম বেপারী। সেখানেই বানু-রুস্তমের প্রথম পরিচয়।
বেনী দুলিয়ে ছুটে বেড়ানো বানু বিবি আর ক্ষেতের মাঝ দিয়ে হেটে চলা রুস্তমের চোখে কী দেখেছিলেন বানু আর রুস্তমের বাবা কে জানে, কিন্তু দুজনেই এই উচ্ছল কিশোরী আর যুবকটিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে মনস্থির করলেন। কিন্তু বানুর দাদা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন—বানুকে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিবাহ দিবেন না।
সুখের দিন দ্রুত যায়, অপেক্ষার প্রহর থমকে থাকে। দাদা যেন সুনীলের ‘মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী’—
‘বড় হও বানু বিবি!’
বানু বিবি আর কত বড় হবে? কিন্তু বানু বা রুস্তমের মতো অপেক্ষার প্রহর যেহেতু আমাদের গুনতে হচ্ছে না, তখন বরং গল্পটা একটু ফাস্ট-ফরয়োর্ড করে দেই— ধরে নিন এভাবেই কেটে গেল বেশ কয়েকটি বছর, দেখতে দেখতে বানু বিবির বয়স হলো কুড়ি। রুস্তম বেপারীর ত্রিশে পা। অবশেষে দাদা রাজী হলেন, এক শুভদিনে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বানু বিবির ভাষায়—
‘আমাদের খুব ভাব-ভালোবাসা ছিল। সে ছিল অনেক সুন্দর, আপনার চেয়ে সুন্দর। আমারে খুব মহব্বত করতো’।
কিন্তু জীবন তো নাটকের চেয়েও নাটকীয়, তাই সুখ আর নিরুপদ্রব রইলো না। বিয়ের দেড় বছর না যেতেই শুরু হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধ। রুস্তম বেপারী দিনমজুরের কাজ করতো যে ইকবাল আহমেদের বাড়িতে, তিনি একদিন এসে বললেন—
: রুস্তম, বঙ্গবন্ধু তো যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে যুদ্ধে নামতে বলছে। চলো যুদ্ধে যাই।
: কিন্তু যুদ্ধে গেলে জমির কাজের কী হবে?
: দেশ স্বাধীন হলে জমির কাজও হবে। স্বাধীন না হলে জমি দিয়ে কী করবো?
গ্রামের আরো অনেকেই যুদ্ধে যেতে চায়। কিন্তু নতুন বউকে রেখে যুদ্ধে যেতে একদম মন চায় না রুস্তমের। বানু বিবিকে এসে বলে—
: বউ, আমি যুদ্ধে যাবো। কিন্তু তোমারে ছেড়ে থাকতে মন চায়না। তুমিও চলো আমার সাথে।
: কী কন আপনি? আর কারো বউ তো সাথে যাচ্ছে না, আমি গিয়া কী করবো?
: তুমি সাথে থাকলে আমি মনে অনেক জোর পাবো। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুমি চলো আমার সাথে।
কী আশ্চর্য, রুস্তমের চোখের দিকে তাকিয়ে বানু মুহুর্তেই রাজী হয়ে যায়! কিন্তু ইকবাল আহমেদ, যিনি পরে গোসাইরহাটের যুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন, তিনি বাধ সাধেন—
: রুস্তম, এটা তুমি কী বলো? আমি তো আরো ভাবলাম তোমার বউ বরং তোমাকেই যেতে দিতে রাজী হবে না!
: জ্বী না, সে নিজেও যেতে রাজী। আপনার ভাবী আমার চেয়েও অনেক বেশি সাহসী। তাকে নিয়ে চলেন, যুদ্ধে অনেক কাজে দিবে।
কী আর করা, অবশেষে একদিন গ্রামের আরো কিছু স্বপ্নবাজ মানুষের সাথে রুস্তম আর বানু রওয়ানা হয়ে গেলো ভারতের উদ্দেশ্যে—প্রশিক্ষণ শিবিরে। এই পথ ঘুরে, সেই পথ ঘুরে তারা পৌছুলো বিশাল এক বালুময় প্রান্তরে। ভারতের বর্ডারে কাছে এটাই তাদের প্রশিক্ষন কেন্দ্র। তাবু টাঙিয়ে সেখানেই সবার সাথে থাকা-খাওয়া, বানু-রুস্তমের নতুন ‘সংসার’!
‘সেখানে প্রশিক্ষনের সংগঠক ছিল মণি শেখ [শেখ ফজলুল হক মনি]। সেখানে আমাদের প্রশিক্ষণ চলতে লাগলো দিনের পর দিন। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ অনেক পরিশ্রমের কাজ। এখানে আমি শিখলাম কীভাবে কাধে ঝুলিয়েই এলএমজি ফায়ার করতে হয়, আর কাঁধে ঠেকিয়ে নিয়ে করতে হয় রাইফেলের নিশানা। গ্রেনেড ধরতে হয় আলতো করে, তারপর ছুড়ে মেরেই শুয়ে পড়তে হয়’।
চার যুগ আগের কথা, কিন্তু এখনও বানু বিবির মনে আছে সেসব কথা—
‘যেদিন আমি হাতের মুঠোয় গ্রেনেডটা নিয়ে ঠিক নিশানাটা লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলাম, সেই দিন আমার ট্রেনার খুব খুশি হয়েছিল। আমারে বলছিল- বানু বিবির জয় হবেই’।
এরপর সুদীর্ঘ ট্রেনিং শেষ করে বানু বিবিরা দেশে ফিরলেন। মুক্তি বাহিনী ফিরেছে ট্রেনিং নিয়ে—গ্রামে যেন শোরগোল পড়ে গেল। শুরু হলো তাদের মুক্তির সংগ্রাম। সেই আগুনঝড়া দিনগুলির কথা এখনও বানু বিবির চোখে ভাসে—
‘আমার কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ বিভিন্ন জায়গায় পৌছে দেয়া। আমি ঝাকার মধ্যে অস্ত্র-গোলা-বারুদ নিয়ে তার উপর পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে ঢেকে বহন করতাম। শাড়ির আচলে একটা বন্দুকও ঢাকা থাকতো— যেন পাকিস্তানীদের হাতে ধরা পড়লে আত্নরক্ষা করতে পারি। মাঝে মাঝে পাকিস্তানী সৈন্যের সামনেও পড়েছি। আমাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করতো—
: এ লাড়কি, ইয়ে কেয়া হ্যায়?
: স্যার, এ পেঁয়াজ হ্যায়… বিক্রি হ্যায়।
তখন আর কিছু বলতো না, ছেড়ে দিত। পেঁয়াজের মধ্যে হাত দিলেই কিন্তু আমি ধরা পড়ে যেতাম’।
এভাবেই চলছিল বানু-রুস্তমের মুক্তি সংগ্রাম। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে রুস্তম বেপারী যখন সম্মুখ যুদ্ধে, বানু বিবি তখন যুদ্ধ-সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যস্ত— যেন নিছকই নতুন সংসার গোছানোর কাজ ভাগ করে নেয়া!
এরই মধ্যে পাকিস্তানী সৈন্যরা এসে হাজির হলো গোসাইরহাটে। বাচ্চু কমান্ডারের বাড়িটা চিনিয়ে দিয়েছিল রাজকারেরা। পুরো এলাকা ঘেরাও করে ফেললো পাকবাহিনী— বাড়ি বাড়ি শুরু করলো খোঁজ। এদিকে বাচ্চু কমান্ডার আর রুস্তম বেপারী তখন অন্যত্র সম্মুখ যুদ্ধে ব্যস্ত। গ্রামে আর কাউকে না পেয়ে পাক বাহিনী নারী ও শিশুদের উপর তাদের বীরত্ব জাহির শুরু করলো।
‘বাড়ি বাড়ি হানা দিল। মাইয়া মানুষ পাইলেই নির্যাতন। কী সুন্দর একটা বউরে কয়েক পাকিস্তানী মিলে কী নির্যাতনটাই না করলো… সেই সাথে আমাকেও!’
তিন দিন রুস্তমদের কোন খোঁজ নেই— ওরা সবাই অপারেশনে। পাকিস্তানী সৈন্যদের বহনকারী একটা লঞ্চ ডুবিয়ে দিল তারা এই সময়। রুস্তম যখন যুদ্ধের ময়দানে— তখন সে জানতেও পারেনি তার ভালোবাসার বানু কী কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছিল। সুযোগ বুঝে কী ভাবে যে বানু সেই ঘর থেকে ছুটে পালালো, তা সে নিজেও ঠিক মতন আর মনে করতে পারে না এখন। কিন্তু মনে আছে, সে যখন ধান ক্ষেতের মধ্য দিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল, পাকিস্তানীরা গুলি করতে করতে পিছু ধাওয়া করছিল। সামনে নদী, পেছনে পাকবাহিনী। বানু বিবি কোন রকম চিন্তা না করেই ঝাপ দিল পানিতে। তবে তাদের অবিরাম গুলিবর্ষন অবশ্য একদম বৃথা গেল না— একটি বুলেট এসে লাগলো বানু বিবির পেটের বা দিকে। মুহুর্তেই রক্তে লাল হয়ে গেল নদী। তারপরও অনেক কষ্টে সাতার কেটে নদীর অন্যপাড়ে এসে লুকালেন বানু বিবি। ক্লান্তিতে শরীর আর চলে না। প্রায় অচেতন অবস্থায় অন্য এক নারী তাকে উদ্ধার করলেন, লতা-পাতার রস দিয়ে ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসা করালেন। এরপর তাকে স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার বললেন, ‘ভয়ের কোন কারন নেই, ভেতরে বুলেট নেই। সম্ভবত গুলির ছড়ড়া লেগেছে, কিছু দিনেই শুকিয়ে যাবে’।
এর তিন দিন পর আবার দেখা হলো রুস্তম বেপারী আর বানু বিবির।
‘আমি কাউকে সেই নির্যাতনের কথা বলিনি। কেমন করে বলি সেই শরমের কথা? কিন্তু যখন আমার স্বামী ফিরলো, তখন আর তার কাছে কিছু লুকাইনি। শুনে আমার স্বামী আমারে জড়ায়ে ধরে কাইন্দা দিল। আমারে অনেক ভালোবাসতো সে’।
পাকবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের শিকার মা-বোনদের যখন দরকার ছিল প্রিয়জনের ভালোবাসা, তখন আমাদের অনেকেই সমাজের দোহাই দিয়ে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু সবাই তো আর সেরকম নয়—একাত্তরে রুস্তম বেপারী আর বানু বিবিরাও ছিল।
সেই যুদ্ধে রুস্তম বেপারী আহত হয়ে প্রায় পঙ্গু হয়ে যান। কিন্তু দেশতো স্বাধীন হয়। যে নবদম্পতি হাতে হাত ধরে জীবন যুদ্ধের বদলে দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, সহধর্মিনী যার সহযোদ্ধা, যাদের কাছে হানিমুন ছিল যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া, যাদের সংসারে খুনসুটির বদলে ছিল শত্রু নিধনের অস্ত্র চালনা, তাদের কাছে দেশের জন্য এটুকু ত্যাগ স্বীকার হয়তো কোন বিষয়ই ছিল না। আর তাই দ্রুতই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান তারা, সংসার ভরে ওঠে নতুন সন্তানের আগমনে। একে একে তিনটি সন্তান তাদের সংসারে আবার নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। নয় মাসের যে যুদ্ধ তাদের সাজানো সংসারকে এলোমেলো করে দিয়েছিল, সবকিছু ভুলে আবার সেই সংসারই নতুন করে গড়ে তুলেন দুজন মিলে।
[গল্পটা এখানে শেষ করতে পারলে সুন্দর একটা সিনেমা বা নাটক বানানো যেত। কিন্তু আসুন, বানু বিবির দ্বিতীয় যুদ্ধের গল্পটাও শুনি]
***
দ্বিতীয় যুদ্ধ
এভাবেই কেটে যায় আরো কয়েকটি বছর। সব যখন ঠিক ভাবে চলছিল, তখনই একদিন কার গুলিতে যেন মারা যান রুস্তম বেপারী! কেউ বলে এটা রাজাকারদের কাজ, আবার কেউ বলে অজানা আততায়ীর কাজ। এক মুহুর্তেই আবার লন্ড-ভন্ড হয়ে যায় বানু বিবির সাজানো সংসার। তিনটি সন্তান নিয়ে অকূল পাথারে পরেন বানু বিবি। শুরু হয় তার মুক্তিসংগ্রামের দ্বিতীয় অধ্যায়— এবার সহযোদ্ধা রুস্তম বেপারীকে ছাড়া!
‘সাহায্যের আশায় ঢাকায় আসলাম, উঠলাম আমার বোনের বাসায়। পচাত্তরের অগাস্ট মাসে একদিন অসুস্থ অবস্থায় বত্রিশ নম্বর বাড়ির কাছে বসে থাকলাম অনেক্ষণ। মণি শেখ আমাকে দেখে চিনলো। বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিল। বঙ্গবন্ধু আমাকে বললো—
: বানু বিবি, তুমি তো বীরাঙ্গনা না, তুমি মুক্তিযোদ্ধা। তোমাদের জন্যই তো আমরা স্বাধীন হইছি, তুমি আমার মা। আমি যদি তোমারে এখন না দেখি, তাইলে আমি মরণেও পস্তাবো। তুমি তোমার বোনের যে বাড়িতে আছো, আমি ওই যায়গায় একটা খাস জমি তোমার নামে বন্দোবস্ত করে দিচ্ছি।
আমার হাতে বঙ্গবন্ধু পাঁচ হাজার টাকাও দিয়া দিল। আমি আশায় বুক বেধে ফিরে এলাম। কিন্তু তার ঠিক একদির পরই বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেললো’।
এরপর জীবন সংগ্রামের সাথে যুক্ত হলো প্রতিশ্রুত যায়গাটুকু পাবার জন্য সরকারের অফিসে অফিসে ঘোরা আর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে অনেকের সাথেই তিনি দেখা করেছিলেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতারোহনের পর শেখ হাসিনার সাথেও দেখা করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিশ্রুত জমিটুকু বন্দোবস্ত পাবার প্রতিশ্রুতিও পেয়েছিলেন। কিন্তু ইতোমধ্য ওই জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে অন্যান্য দাবীদার তৈরি হয়েছে। সরকার থেকেও তাকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে—ওখানে খাস জমি নেই, তাই অন্যত্র তাকে ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। কিন্তু বানু বিবির মতে—
‘যেখানে আমি এখন ঘর দখল নিয়ে আছি, সেখানে ২৫ শতাংশ খাস জমি আছে। আমাকে তো এখানেই বন্দোবস্ত করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সরকারী অফিসে এখন আমাকে বলে উত্তরার নলভোগে যেতে। সেখানে একটা অকৃষি খাসজমি আমার কাছে তের লক্ষ পয়ষট্টি হাজার টাকা সেলামী নিয়ে বন্দোবস্ত করে দিতে চায়। আমি যতই বলি এতোটাকা আমি কোথায় পাবো.. আমাকে আমার বর্তমান জমিতেই বন্দোবস্ত করে দেন, ততই তারা আমাকে ঘুরায়। আমি আরেক বার একটু প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই, কিন্তু কেউ আর সেই সুযোগ দেয়না আমাকে।
‘আমার স্বামী আর আমি দুইজনেই অস্ত্র হাতে ট্রেনিং নিয়েছি, যুদ্ধ করেছি। অনেক কষ্টে তার নামটা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় উঠানো হলেও, আমার নামটা এখোনও তালিকায় নাই। বাচ্চু কমান্ডার অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। অথচ যারা যুদ্ধের আশে-পাশেও ছিল না, তাদের নামও আছে মুক্তিযোদ্ধা লিস্টে’!
[লেখকের কথা: গত সপ্তাহে ধানমন্ডির এক রাস্তার ফুটপাতে সাহায্যের হাত পেতে বসে থাকা এক বৃদ্ধাকে দেখে থামলাম। পাশে বসে কুশল বিনিময় করতে গিয়েই অবাক হবার পালা। ইনি নাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আগ্রহ নিয়ে শুনতে থাকলাম তার গল্প। কিন্তু এই শহরে কে যে ঠিক আর কে যে ভুল—তা বোঝা মুশকিল। তাই পরের দিন একই স্থানে আবার দেখা করবো বলে বাসায় ফিরলাম। গুগল সার্চ করতেই পেয়ে গেলাম বানু বিবির ুনাম—সংবাদে একটি প্রতিবেদন বের হয়েছিল তাকে নিয়ে। পরের দিন প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে দেখা করলাম তার সাথে। আগের দিনের শোনা গল্পই আবার শুনতে চাইলাম তার কাছে। একাত্তর তো সেই চার যুগ আগের কথা, এর মধ্য বার্ধক্যও ভর করেছে তার স্মৃতিতে—অনেক কিছুই মনে থাকে না। একই গল্প তিনবার শুনলাম তার কাছে—প্রতিবারই নতুন কিছু খুটিনাটি যোগ হলো। এমনি করেই পেলাম এই যোদ্ধা দম্পতির গল্প।]


