একাত্তরের ছবি

মাথার মধ্যে সম্ভবত: পানি ঢুকে গিয়েছে, তাই মনে হয় শুধু পানির ছবি তুলি। বিজয়ের মাসে তাই কিছু ছবি তুললাম একাত্তরকে মাথায় রেখে। আগেই বলে রাখি, অধিকাংশ পানির আকৃতিই কিন্তু পূর্বপরিকল্পনা মতো করা নয় (সম্ভবও নয়)| বরং শ’খানেক ছবি তোলার পর তার খেকে কাহিনীর প্রয়োজন মতো কিছু ছবি বেছে নিয়ে করা এই পোস্ট।

যদিও পানির ফোটার সাথে সেকেন্ড মিলিয়ে ক্যামেরা ক্লিক করতে অনেক কসরৎ করতে হয়, তবুও সয়ংক্রীয় যন্ত্রের চেয়ে যারা হাতুড়ে মাধ্যমে ছবি তুলেন, তাদের ছবিই বেশি আকর্ষনীয় আর “স্বাভাবিক” মনে হয় আমার কাছে। সেই হাতুড়ে ছবিয়ালদের অনুসরণ করেই এই ছবিগুলো তোলা।

পানির আকৃতি-রঙ কোন কিছুতেই ফটোশপের কৃতীত্ব নেই। তবে ছবির color contrast, ছবিতে আমার সাক্ষর আর ‘প্রায় অদৃশ্যমান’ নামের জলছাপ ফটোশপেই ঠিক করা। মুলত: পানিপূর্ণ প্লেটে বিভিন্ন রঙ আর কাগজ কেটে বানানো মানচিত্র রেখে তার উপর পানির ফোটা ছেড়ে তোলা হয়েছে ছবিগুলো।

০১. ২৫শে মার্চ, ১৯৭১: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় একটি রাত!


০২. পাকহানাদারদের অতকির্ত ও কাপুরুষিত গণহত্যায় স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সবুজ প্রান্তর রক্তে লাল হয়ে ওঠে।

০৩. একদিকে রাজাকার আর পাকহানাদারদের আঁতাতে আধাঁর নেমে আসে বাংলাদেশের বুকে।

০৪. অন্যদিকে, রক্তশপথ নিয় ঘুরে দাড়ায় বাঙালী।

০৫. কাধে কাধ মিলিয়ে উঠে দাড়ায় বাঙালী। ২৬শে মার্চ, ১৯৭১-এ ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

০৬. বাংলাদেশের সবুজ প্রান্তর, লাল সুর্য আর মানচিত্র বুকে নিয়ে যুদ্ধ করে চলে মুক্তিযোদ্ধারা।

০৭. স্বাধীনতা প্র্রায় দ্বার প্রান্তে। ” পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল … জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল… ”

০৮. অবশেষে নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর আসে স্বাধীনতা। উৎসবে মেতে ওঠে বাঙালী।

০৯. সেই উৎসবে যোগ দেয় বড়-শিশু সকলে

১০. লাল-সবুজের পতাকাটি হয়ে ওঠে আমাদের একতার প্রতীক।

১১. একাত্তরের চেতনা বুকে নিয়ে শুরু হয় দেশ গড়ার কাজ।

১২. যাদের আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা, তাদের স্মরনে আজো আমরা ফুল দেই শহীদ মিনারে।

১৩. শুধু রাতের আধারে এখনোও এক মাকে দেখি অপেক্ষা করে থাকেন পথের ধারে—হয়তো সন্তানের ফিরে আসা অথবা সন্তান হত্যার বিচারের আশায়!

Advertisements

Comments are closed.

%d bloggers like this: