প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: কী আছে কী নেই

সচলায়তনে প্রকাশিত

নেতা-নেত্রীদের কল্যাণে পরের মুখে খাওয়া আর পরের কানে শোনার এমনি অভ্যেস হয়েছে, যে তাঁরা না বলা পর্যন্ত বোধকরি এ জগতের কোন কিছুই আর বিশ্বাস হয় না। ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বললেন সফর একশত ভাগ সফল আর বিরোধীদল বললেন সফর একশত ভাগ বিফল। এদিকে আমজনতা দুভাগ হয়ে কেউ ঢোল কেউ কপাল চাপড়াতে শুরু করলাম। সবাইকে শুধু তালি আরা গালি দিতেই দেখছি, কিন্তু চুক্তিতে আসলে কী আছে তা নিয়ে তারা তেমন কিছুই বলছেন না।

শেষ পর্যন্ত পরের মুখে ঝাল/মিষ্টি খাবো না এই সীদ্ধান্ত নিয়ে সফর সংক্রান্ত সরকারী যৌথ ইশতেহার (joint communiqué) নিয়ে বসলাম। মূলত: এই ইশতেহার, সরকারের ব্যাখ্যা আর বিরোধীদলের প্রতিবাদ পর্যালোচনা করেই এই লেখা।

সফরের উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত এবং চুক্তির বিষয়বস্তুই এই লেখার প্রতিপাদ্য। মোট একান্নটি অনুচ্ছেদ আছে যৌথ ইশতেহারে যা সংক্ষেপে পুরো সফরের কর্মকান্ড তুলে ধরেছে। প্রাথমিক অনুচ্ছেদগুলো (অনুচ্ছেদ ১-১৬) মূলত: স্মৃতিচারন, আনুষ্ঠানিকতা আর সৌহার্দ বিনিময় সংক্রান্ত। এই লেখাটি অনুচ্ছেদ অনুসারে না সাজিয়ে, বিষয় অনুসারে সাজানো হয়েছে। মূল ইশতেহারটি এখানে আছে

বন্দর ও ট্রানজিট
অনুচ্ছেদ ২৩ অনুসারে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে সড়ক ও রেলপথে ভারতে পণ্য আনা-নেয়া অনুমোদন করবে।

নৌবন্দর একটি স্থায়ী সম্পদ যা তেল-গ্যাসের ন্যায় নি:শেষিত হয় না, কিন্তু এর সেবা অন্যান্য দেশে রপ্তানী করা যায়। আমাদের দুইটি বন্দরের যে সামষ্টিক সামর্থ্য, তার পুরোপুরি ব্যবহার তো হয়ই না, বরং মংলা বন্দরের ন্যায় একটি প্রাকৃতিক বন্দরের সিংহভাগ সুযোগই অব্যবহৃত রয়েছে। আমরা যদি ভারতের কাছে এই বন্দর-সেবা বিক্রি করতে পারি, তাহলে একদিকে যেমন ভারতীয় পন্য ব্যবস্থাপনা ও জাহাজের খাদ্য-পানীয় ইত্যাদি সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবাখাত প্রসার লাভ করবে, অন্যদিকে তেমনি চলমান বন্দরের খরচ economy of scale এর কারনে কমে গিয়ে দেশীয় আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যের পরিবহন খরচও কমাতে সাহায্য করবে।

নেপাল ও ভুটানকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেবার বিষয়েও বাংলাদেশ আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছে যার জন্য ভারতের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট প্রয়োজন হবে। অনুচ্ছেদ ২৬ অনুসারে নেপালকে রোহানপুর-সিংবাদ রেলপথের মাধ্যমে ট্রানজিট দেবার বিষয়ে ভারত স্বীকৃতি দিয়েছে। ভুটানের জন্যও অনুরূপ ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে এবং এই অমীমাংসীত বিষয়টির দ্রুত ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা প্রয়োজন। তবে অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুসারে নেপাল-ভুটান উভয়ই ট্রাকের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলাবন্ধ-ফুলবাড়ী স্থলবন্দর পযর্ন্ত ভারতের ট্রানজিট ব্যবহার করতে পারবে।

ভারতের প্রায়-বিচ্ছিন্ন পূর্বাঞ্চলকে ট্রানজিট সুবিধা দেবার জন্য আশুগঞ্জ থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত নৌ-বন্দর সংস্কারের কাজ হাতে নেবার কথা বলা হয়েছে (উল্লেখ্য, ভারতকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত নৌ-ট্রানজিট আগেই দেয়া ছিল)।
অনুচ্ছেদ ২২ অনুসারে আশুগঞ্জ এবং শিলঘাট ব্যবহৃত হবে নৌ-ট্রানজিটের পোর্ট অব কলহিসেবে। ভারত এজন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে এবং বাংলাদেশ তাতে প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। ট্রানজিটের সুবিধার্থে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ উন্নয়নেও ভারত বিনিয়োগ করবে (অনুচ্ছেদ ২৪)।

সীমানা সমস্যা
সীমানা সংক্রান্ত দুটি বিষয় উঠে এসেছে ইশতেহারে- সীমান্ত রক্ষীদের হাতে হত্যাকান্ড (অনুচ্ছেদ ১৮) এবং ভারতের সাথে স্থল ও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি (অনুচ্ছেদ ২০, ২১)।

ভারতের বিএসএফ-এর হাতে নিয়মিত প্রাণহানির বিষয়টি আলাদা ভাবে ইশতেহারে স্থান পায়নি। তবে সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম রোধ ও হত্যা বন্ধের জন্য স্ব স্ব বাহিনীর নিয়ন্ত্রন ও নিয়মিত বৈঠকের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে এবং এধরনের হত্যাকান্ডের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও অবগত।

স্থলভাগের সীমানা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে যে যৌথ সীমানা দল (Joint Boundary Working Group) ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, তা আমলাতন্ত্র আর বৈঠকের বাধনে আটকে না গিয়ে যেন দ্রুত কাজ শুরু করে, তা এখন নিশ্চত করতে হবে।

এই সফরের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে সমুদ্রসীমা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সমাধানের ব্যর্থতায় জাতিসংঘের (UNCLOS) দ্বারস্থ হবার বিষয়ে ভদ্রলোকচিত ঐকমত্য (অনুচ্ছেদ ২১)।
বড় দেশ হিসেবে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সমাধানের বদলে জাতিসংঘের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানই আমাদের জন্য সহজ হবে এবং বাংলাদেশ এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সমাধানের বাধনে আটকে না রাখাটা দেশের জন্য ভালো হয়েছে।

পানি বন্টন ও নদী সংস্কার
তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে এই সফরে কোন চুক্তি স্বাক্ষর বা বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। তবে বিষয়টি দ্রুত (২০১০ এর মার্চ এর মধ্যেই) যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সমাধানের জন্য বলা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮)।

তিপাইমুখে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোন পদক্ষেপ ভারত গ্রহন করবে না, এই মর্মে আশ্বাস পাওয়া গেলেও (অনুচ্ছেদ ৩১), তিপাইমুখ বাধ বাতিল করার কোন ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। তাই তিপাইমুখ-বিরোধী চলমান কর্মসূচী অব্যহত রাখার পাশিপাশি বাধের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ ও তার সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে যেন তা ভারতের এই আশ্বাসের বিপরীতে ব্যবহার করা যায়।

তবে বন্যা নিয়ন্ত্রন এবং যোগাযোগের সুবিধার জন্য ইছামতি নদীর খনন এবং মহানন্দা, করতোয়া, ধরলাসহ সাতটি নদী রক্ষায় ভারতের সহযোগিতার বিষয় নিশ্চত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ২৯)।
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ৯টি নদীতল খনন যন্ত্র ভারত জরুরী ভিত্তিতে সরবরাহ করবে (অনুচ্ছেদ ৩০)।

বিদ্যুত, বাণিজ্য, ঋন
ভারত বাংলাদেশকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুত ব্যবস্থার আন্ত:সংযোগের প্রয়োজনীতা নিয়ে কথা হলেও বাংলাদেশ কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। তবে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনসহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উৎপাদন ও উন্নয়নে একত্রে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩২)।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হলেও, খুব একটা ফল এই দফায় পাওয়া যায়নি। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশকে ভারতের দেয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রায় কোন কাজেই আসে না, যেহেতু বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানী দ্রব্য এর আওতার বাইরে। ভারত যদিও তার এই সংরক্ষিত-তালিকা (negative list) থেকে আরো কিছু পণ্য বাদ দিয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৩), কিন্তু তা এখোনও যথেষ্ট নয়।

ভারত তার মেঘালয় সীমান্তে যে পরীক্ষামূলক সীমান্ত-বাজার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৭), তা ভারতের স্থলাবদ্ধ ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসারে সাহায্য করতে পারে। ভারত থেকে প্রায়-বিচ্ছন্ন এ অঞ্চলে বাংলাদেশী পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পূর্বের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানীতে ভারত প্রায়ই বিভন্ন রকম অশুল্ক বাধা আরোপ করে থাকে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি আগেই মাথায় রাখতে হবে।

সীমান্ত বাণিজ্য সচল করার জন্য অবোকাঠামো উন্নয়নে উভয় দেশের সম্মতি প্রকাশ ছাড়াও (অনুচ্ছেদ ৩৬), বাংলাদেশের বিএসটিআই-এর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারত সক্রিয় সহযোগিতা দিবে (অনুচ্ছেদ ৩৪) বলে অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়াও, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের জন্য ভারত ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৯) এবং ভবিষ্যতে ঢাকায় সড়ক ও ফ্লাইওভার উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রেখেছে (অনুচ্ছেদ ৪০)।

শিক্ষা-সংস্কৃতি-অন্যান্য
২০১১ সনে রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শত বছর পূর্তি উৎসব ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে পালন করবে (অনুচ্ছেদ ৪১) বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারে।

ভারত আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে বার্ষিক ৩০০টি বৃত্তি প্রদানের কথা ঘোষনা করেছে যা আলোচনার মাধ্যমে বৃদ্ধি করা যেতে পারে (অনুচ্ছেদ ৪২)।

তবে এই অনুচ্ছেদে “scholars and persons in government employment” বলতে শুধু সরকারী কর্মকর্তাদের কথাই বলা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বৈদেশিক বৃত্তি কুক্ষগত করা ও বেসরকারী ছাত্রদের বৈদেশিক বৃত্তি থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিকে বাংলাদেশের কিছু সরকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন (পরে এক সময় এ নিয়ে লিখবো আশি করি)।

জাতিসংঘে ছোট দেশগুলির সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার সাধনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। যদি কখোনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার সাধিত হয়, তবে তাতে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত সমর্থন আছে বলে বলা হয়েছে।

তবে আপাতত: নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে ২০১১-২০১২ মেয়াদে বাংলাদেশ ভারতকে, এবং ২০১৬-১৭ মেয়াদে ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন দেবার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

চুক্তি নয়, সম্মতি
ইশতেহারে বন্দর, পানি এবং সীমানাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব বিষয়েই দুই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি প্রকাশিত হয়েছে মাত্র, কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্য/বাধ্যতামূলক কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। যে বিষয়গুলিতে চুক্তি হয়েছে, তা মূলত: প্রশাসনিক বিষয়। অপরাধ বিষয়ে পারস্পারিক আইনি সহায়তা; সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিনিময়; এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ আর মাদক পাচার প্রতিরোধে পারস্পারিক সহায়তার জন্য তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত চুক্তি করলে বাংলাদেশে সন্ত্রাস আছে বলে প্রমাণিত হবে- কারো কারো মধ্য এধরনের একটি আশঙ্কা রয়েছে। এটি দূর করার জন্যই সম্ভবত: শুধু সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত চুক্তির বদলে সংঘবদ্ধ অপরাধ আর মাদক পাচার সংক্রান্ত বিষয়ও এই চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তির পর বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদের সমস্যা নেই বললেই চলে, সেহেতু বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাস মোকাবেলায় এই চুক্তি ভারতকে বেশি সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, আন্ত:সীমান্ত (আন্তর্জাতিক নয়) সন্ত্রাস মোকাবেলায়- তা চোরাচালান কেন্দ্রিকই হোক অথবা পলায়নপর দেশীয় সন্ত্রাসী মোকাবেলার ক্ষেত্রেই হোক- বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক বেশি সুবিধা পাবে। কারন, ভারতের স্থল সীমানার স্বল্প অংশই বাংলাদেশের সাথে, কিন্তু বাংলাদেশের স্থল সীমানা প্রায় পুরোটাই ভারতের সাথে।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিনিময় সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪৯)।

কিন্তু বন্দর, সীমানা ও পানি বন্টনের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখোনও স্বাক্ষরিত হয়নি যেখানে জনমত প্রকাশের সুযোগ এখনও রয়েছে। এটাকে ভালো-মন্দ দুই দিকেই বিচার করা যায়। চুক্তি হয়ে গেলে হয়তো পানি বন্টনের মত জরুরী বিষয়গুলি বাস্তবায়ন দ্রুততর হতো, কিন্তু অন্যদিকে চুক্তি না হওয়ায় এসব বিষয় নিয়ে দেশে আলোচনার সুযোগ তৈরী হয়েছে। চুক্তি পরবর্তী অকার্যকর সমালোচনার বদলে, এই প্রাক-চুক্তি আলোচনা দেশের গনতন্ত্রের জন্য অনেক ভালো।

Advertisements

Comments are closed.

%d bloggers like this: